
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কার্যকরী কমিটির ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে
সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল। ১৪টিতে অংশ নিয়ে ৭টি পদে বড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল সাধারণ সম্পাদকসহ ৬টি এবং বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সভাপতিসহ জয় পেয়েছে ৪টি পদে।
মূলত: তিনটি রাজনৈতিক ঘরনার প্যানেলের অংশগ্রহণে জমজমাট লড়াই হয়েছে আলোচিত এই নির্বাচনে। যেখানে আগে কখনো এভাবে নির্বাচন হয়নি। কারণ ১৯০১ সালে আইনজীবীদের এই সমিতি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি দু’টি প্যানেল দেখেছে মানুষ। তা হলো, বিএনপি-জামায়াত জোট এবং আওয়ামী লীগ একক প্যানেল। কিন্তু সরকার গঠনের পর এবারই প্রথম তাদের সংসার ভেঙেছে। দুই রাজনৈতিক দল নিজেদের আইনজীবী নিয়ে প্যানেল দিয়েছে আলাদা। কিন্তু ৫ আগস্ট তথা সরকার পতনের দীর্ঘ প্রায় ১৯ মাস পর জেলা পর্যায়ের এটিই প্রথম নির্বাচন যেখানে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের সক্রিয়ভাবে ওপেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয় লাভ করা।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। কেন্দ্র দু’টি ছিল কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন ও চকরিয়া উপজেলা চৌকি আদালত ভবন।
নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মন্নান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আমির হোসাইন।
সাধারণ সম্পাদক পদে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন হেলালী বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা। বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্তফার অবস্থান তৃতীয়।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, পাঠাগার ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট শওকত ওসমান এবং নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আজিজুল করিম জয় নির্বাচিত হয়েছেন। এই প্যানেল ১৭টি পদের বিপরীতে ১৬ জন প্রার্থী অংশ নিয়ে ৪ জন জয়ী হন।
জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল থেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আবদুল বারী, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন মাহমুদ তমাল, সিনিয়র নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নেজামুল হক ও অ্যাডভোকেট এ কে এম শাহজালাল চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে জয় পান অ্যাডভোকেট এস এম জসিম। এই প্যানেল ১৭টি পদের বিপরীতে ১৭ জন প্রার্থী দেয় এবং ৬ জন বিজয়ী হন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সহ-সাধারণ সম্পাদক (হিসাব) পদে অ্যাডভোকেট মো. মহিউদ্দিন, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রিদুয়ান আলী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নাহিদা খানম কক্সী, সিনিয়র নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট ইকবালুর রশিদ আমিন ও অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন আহমদ নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট পারভীন সুলতানা পিয়া ও অ্যাডভোকেট সেকাব উদ্দিন জয়লাভ করেন। এই প্যানেল ১৭ পদে ১৪ জন প্রার্থী দেয় এবং সেখান থেকে ৭ জন নির্বাচিত হন।
সমিতির মোট ভোটার ছিলেন ৯৪৮ জন। এর মধ্যে কক্সবাজার কেন্দ্রের ভোটার ৮৬১ এবং চকরিয়া কেন্দ্রে ৮৭ জন। মোট কাস্ট হয়েছে ৮৯২টি ভোট। কক্সবাজার কেন্দ্রে ৮০৬ এবং চকরিয়া কেন্দ্রে ৮৬ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবারই প্রথম বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত তিনটি প্যানেল আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেয় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাং আহমদ কবির।
সহকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম রেজাউল করিম, সৈয়দ রাশেদ উদ্দিন ও মোস্তাক আহমদ। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফরিদ আহমদ, নূর আহমদ, আবু ছিদ্দিক, তাপস রক্ষিত, মোহাম্মদ সিরাজউল্লাহ, এ কে ফিরোজ আহমদ ও মোহাং আরিফ উল্লাহ।
জানা গেছে, ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ইতিহাসে গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার কারণে এবার প্রথমবারের মতো রমজান মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
গত বছরের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে, জামায়াত সমর্থিত প্যানেল ৬টি পদে এবং আওয়ামী লীগ ঘরানার ২ জন প্রার্থী জয় পেয়েছিলেন। এবারের ফলাফলে তিন পক্ষের মধ্যেই তুলনামূলক ভারসাম্য দেখা গেছে। যা এখন টক অব দ্যা কক্সবাজার এমনকি টক অব দ্যা বাংলাদেশে পরিনত।

কক্সবাজার প্রতিনিধি 
















